বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

ডেইলি খবর ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে করা প্রস্তাবিত চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করলে চুক্তিটি কার্যকর হবে না। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা জানান, গত জুলাইয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছিল। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারবে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, সোমবার চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠানোর ফলে ট্রাম্পের লক্ষ্য কীভাবে এগিয়ে যাবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই চুক্তিটি এগিয়ে যাবে।ইসরাইলের সঙ্গে আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এসব চুক্তি করা হয়েছিল।

২০২০ ও ২০২১ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি হয়। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও সৌদি আরবের সঙ্গে একই ধরনের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে কাজ করেছিলেন।

চলতি বছরের জুলাইয়ে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কয়েক দিন পরই ট্রাম্প চুক্তিটি কার্যকরের জন্য ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে শর্ত করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করতে চেয়েছিলেন এবং সেটিকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।

২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সৌদি আরব এখন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে একটি ‘অপরিবর্তনীয় পথ’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।

৩০ বছর মেয়াদি এই পারমাণবিক চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক হাজার কোটি ডলার। এতে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন ওয়েস্টিংহাউস উপকৃত হবে।

কংগ্রেসের দুই সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে পাঠানো হতে পারে। ৯০ অধিবেশন দিবসের মধ্যে কংগ্রেস আপত্তি না জানালে চুক্তিটি কার্যকর হবে। কংগ্রেস চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারবেন। তবে ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।

সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা-কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের পক্ষের বিশেষজ্ঞরা চুক্তিটির সমালোচনা করেছেন। তাদের উদ্বেগ, চুক্তিতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই। এসব প্রক্রিয়া পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এটিকে পারমাণবিক বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পারমাণবিক বিস্তার রোধের ব্যবস্থা রয়েছে।

ননপ্রলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকোলস্কি বলেন, চুক্তি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে ট্রাম্প এমন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন যে, কংগ্রেস ইসরাইলের স্বীকৃতি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসংক্রান্ত শর্ত ছাড়াই চুক্তিটি অনুমোদন করতে পারে।

তিনি জানান, পারমাণবিক বিস্তার রোধ ও ইসরাইলের স্বীকৃতির বিষয়ে সত্যিই কঠোর অবস্থান থাকলে এমন পরিস্থিতি ‘আদর্শ নয়’। ফাইল ছবি,তথ্যসূত্র: রয়টার্স

 

ডেইলি খবর টুয়েন্টিফোর

Link copied!